বিশেষ প্রতিবেদক : খুলনা-৬ আসন (কয়রা-পাইকগাছা)-কে ঘিরে রাজনীতির মাঠ এখন উত্তপ্ত। ভোটের ঢামাডোল শুরুর আগেই, নির্বাচনী হাওয়া টের পাওয়া যাচ্ছে প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায়। বর্তমানে সক্রিয় সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা চালিয়ে যাচ্ছেন গণ সংযোগ। বিশেষ করে এ আসনে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এর মধ্যে সম্প্রতি সাড়া ফেলেছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সিনিয়র সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজি। নিজ সংসদীয় এলাকার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, প্রতীয়মান করছেন নিজেকে এ আসনে ধানের শীষের অন্যতম দাবিদার হিসেবে।
সাম্প্রতিক সময়জুড়ে কয়রা-পাইকগাছার গ্রামেগঞ্জে, হাটে বাজারে, পাড়া-মহল্লা, স্কুল-কলেজে ও মাদ্রাসায় তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ, তরুণ ভোটার এবং স্থানীয় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলছেন এক শক্তিশালী জনসম্পৃক্ততা। তার সফরসূচিতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নজর কাড়ছে সবার।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি তুলে ধরছেন বিএনপির ৩১ দফার কথা, যার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র মেরামতের যাবতীয় উপাদান। পাশাপাশি নিজ এলাকার উন্নয়ন-চিত্র, ধর্মীয় সম্প্রীতি,রাজনৈতিক সৌহার্দ্য,নিজ এলাকা নিয়ে উন্নত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং যুব সমাজের উন্নয়নে তার নিজস্ব ভাবনাও শোনাচ্ছেন। যা মানুষ সাদরে গ্রহণ করছে।
রাজনৈতিক অবস্থান : জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালনা ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজি। দক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে সাংবাদিক অঙ্গনের তারকাখ্যাতি ও রাজনৈতিক দায়িত্ববোধকে একসূত্রে গেঁথে আমিরুল ইসলাম কাগজি একটি আধুনিক, সক্রিয় ও সুসংগঠিত সামাজিক শক্তিতে রূপান্তর করছেন।
আমিরুল ইসলাম কাগজি বলেছেন,আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক ও আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর আস্থা রেখে এবং আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমিরুল ইসলাম কাগজি একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তি, যিনি মাঠপর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে সরব। তারা মনে করেন, যদি আমিরুল ইসলাম কাগজিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে এই আসনে বিএনপি শক্ত অবস্থান নিতে পারবে এবং ভোটারদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার ঘটবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিকতার পাশাপাশি আমিরুল ইসলাম কাগজি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, মানবাধিকার ও সমাজসেবামূলক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আছেন। বিশেষ করে করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, “আমিরুল ইসলাম কাগজি শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি জনগণের কণ্ঠস্বর। তার নেতৃত্বে খুলনা-৬ আসনে নতুন ধারা ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।”
অন্যদিকে, সাধারণ ভোটারদের অনেকেই বলছেন—“আমিরুল ভাই সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি সুযোগ পেলে এলাকার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দেবেন।”
রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, খুলনা-৬ আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে চমকপ্রদ। তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা, পেশাগত সততা ও সামাজিক সংযোগের কারণে আমিরুল ইসলাম কাগজি এই আসনে বিএনপির সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যেই আলোচনায় রয়েছেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কলম ধরেছেন আমিরুল ইসলাম কাগজি। কিন্তু সাংবাদিকতার বাইরেও তাঁর একটি বড় পরিচয় হলো মানবিক মানুষ। অসুস্থ, অভাবী কিংবা বিপদগ্রস্ত—যে কেউ পাশে পেয়েছেন তাঁকে। বিশেষ করে করোনাকালীন সংকটে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষকে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেছেন, যা আজও মানুষের মুখে মুখে।
স্থানীয়রা বলেন,“আমিরুল ইসলাম কাগজী ভাই এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের কষ্ট ভুলে অন্যের পাশে দাঁড়ান। তিনি শুধু সাহায্য করেন না, আমাদের সাহসও দেন।”
শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করায় তিনি বহুবার প্রশংসিত হয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেক তরুণ আজ স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।
ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পসহ অসহায় ও দরিদ্র জনগণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণের এই উদ্যোগে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সাড়া। এই মেডিকেল ক্যাম্পে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু চিকিৎসা নিতে আসেন। বিনামূল্যে রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, চোখ ও সাধারণ রোগের পরীক্ষা ছাড়াও প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে দিনব্যাপী এই আয়োজনটি হয়ে ওঠে এক মানবিক উৎসব।
আমিরুল ইসলাম কাগজি বলেন,“জনগণের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি মানে মানুষের সেবা। তাই চেষ্টা করছি অসহায় মানুষের পাশে থাকতে, তাদের কষ্ট ভাগ করে নিতে।”
এই উদ্যোগকে ঘিরে এলাকায় দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সাধারণ মানুষ ভিড় করেন চিকিৎসা নিতে।
ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবদান রেখে প্রশংসিত মানবিক সমাজসেবক আমিরুল ইসলাম কাগজি সিনিয়র সাংবাদিক ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত এই মানুষটি শুধু কলমে নয়, বাস্তব কর্মে নিজেকে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত করেছেন। মসজিদ, মন্দির, স্কুল, মাদ্রাসা কিংবা কলেজসব জায়গাতেই তাঁর অবদানের ছাপ স্পষ্ট।
বিভিন্ন সময় তিনি মসজিদের উন্নয়ন, ছাদ মেরামত, লাইটিং ও সাউন্ড সিস্টেমে সহায়তা করেছেন। পাশাপাশি মন্দিরের নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ, সংস্কার ও পূজার প্রস্তুতিতেও দিয়েছেন অর্থসহায়তা। তাঁর এই উদারতা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
একইভাবে শিক্ষার উন্নয়নেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা। এলাকার একাধিক স্কুল ও মাদ্রাসায় বই, বেঞ্চ, ফ্যান, কম্পিউটার ও খেলাধুলার সরঞ্জাম প্রদান করেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে নিয়মিত পুরস্কার প্রদান ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
Leave a Reply