নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের সহযোগী কবির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার সন্ধ্যার পর তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন পুলিশের বিশেষ এ ইউনিটের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
এ গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে তুলে ধরেন তিনি।
হাদিকে গুলির ঘটনায় এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ; যাদের মধ্যে চারজনকে রিমান্ডে পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সবশেষ গ্রেপ্তার কবির ওরফে দাঁতভাঙা কবির (৩০) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে পরে জানান র্যাব ১১ এর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক।
রাতেই তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব়্যাব কর্মকর্তারা বলেন, কবির স্বেচ্ছাসেবক লীগের আদাবর থানার ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক, অস্ত্র ও কিশোর গ্যাং নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়, কিন্তু থাকতেন রাজধানীর আদাবরে। তার পিতার নাম প্রয়াত মোজাফফর।
ব়্যাব কর্মকর্তা নাঈম বলেন, “ভোর ৫টার দিকে বক্তাবলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে টানা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।”
কবিরসহ র্যাব পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে হাদিকে গুলির সময় যে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল সেটির মালিক আব্দুল হান্নানকে প্রথম আটক করে। পরে তাকে পুলিশে হস্তান্তরের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এরপর হত্যাচেষ্টার মামলায় সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু ও ঘনিষ্ঠ বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এছাড়া হাদিকে গুলিবর্ষণকারীদের পালানো ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারির মধ্যে শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
শুক্রবার ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। গত শুক্রবার গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন।
চলন্ত রিকশায় থাকা তাকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়।
গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অবস্থা ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’ বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সোমবার তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply