নিউজ ডেস্ক : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের গ্রেপ্তারের পর ঘটনার দিন ফয়সালের গতিবিধি ও আত্মগোপনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
র্যাব জানিয়েছে, মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মোসা. হাসি বেগমের (৬০) চার সন্তানের মধ্যে ফয়সাল তৃতীয়। সে প্রায়ই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বোন জেসমিন আক্তারের বাসায় যাতায়াত করত। ঘটনার দিন রাতেও একটি কালো ব্যাগ নিয়ে বোন জেসমিনের বাসায় যায় ফয়সাল। পরে সেটি বাইরে ফেলে দিলেও পরবর্তীতে ভাগনে জামিলকে (১৮) দিয়ে ব্যাগটি আবারও নিয়ে আসে।
র্যাব আরও জানিয়েছে, ওইদিন বোনের বাসায় বাবা হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগমের সঙ্গেও দেখা করে ফয়সাল। সেই সঙ্গে নিজের ব্যবহৃত দু’টি মোবাইল ফোনের মধ্যে একটি সে বোনের বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেয়। আর অন্যটি তার মা হাসি বেগমকে দেয়। তবে একপর্যায়ে বোনের বাসায় অবস্থান নিরাপদ মনে না হলে সেখান থেকে মিরপুরের শাহজাদপুর এলাকায় যায়। সেখানে ফয়সাল তার বাবা হুমায়ুন কবিরের ভাতিজা আরিফের বাসায় অবস্থান করে।
পরবর্তীতে ফয়সালকে তার বাবা হুমায়ুন কবির একটি সিএনজি ভাড়া করে দেন এবং সঙ্গে কিছু টাকাও তাকে দেন। আর স্ত্রী হাসি বেগমকে নিয়ে তিনি নিজে অপর ছেলে হাসান মাহমুদের কেরানীগঞ্জের বাসায় চলে যান। তবে সেখানে যাওয়ার আগে তারা জুরাইন থেকে দু’টি মোবাইল ও সিম কিনে নিয়ে ব্যবহার করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফয়সালের বাবা হুমায়ুন ও মা হাসি বেগমকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল।
এছাড়াও একই দিন রাতে নরসিংদীতে অভিযান চালিয়ে ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে র্যাব-১১। সেই সঙ্গে ওই অভিযানে মো. ফয়সাল (২৫) নামে এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, নরসিংদী সদর থানাধীন তরুয়া এলাকার মোল্লা বাড়ি থেকে ফয়সাল নামের ওই যুবককে আটক করা হয়। সেই সঙ্গে মোল্লা বাড়ির সামনের তরুয়ার বিলের পানির মধ্যে থেকে ২ বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, একটি খেলনা পিস্তল ও ৪১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের গুলিসহ ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে র্যাব। র্যাব সূত্র জানায়, প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সালের বোনের বাসার পাশের একটি জায়গা থেকে ম্যাগাজিনটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এ আলামতটি ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি। ওইদিন মোটরসাইকেলে করে এসে দুইজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সবশেষ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছে ওসমান হাদিকে।
Leave a Reply