জেলা প্রতিনিধি :বরগুনা ১ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার প্রচারণা জমে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই প্রতিটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে, তার ধারাবাহিকতায় বরগুনার জনপদে প্রার্থীরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ইসলামী দলের মধ্যে কে আছেন এগিয়ে? এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নতুন ভোটারদের মধ্যে।
বরগুনা-১ আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও, এবার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া জামায়াত ইসলামী। বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তারাও নির্বাচনী মাঠ দখলে নিতে কৌশলে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীও নির্বাচনে চমক দেখাতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছেন।
দীর্ঘ সতের বছর পর নানা জল্পনা ও কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সারা বাংলাদেশে এখন নির্বাচনী হাওয়া বইছে।
বিগত সরকারের আমলে ফ্যাসিবাদ ও নানা জেল-জুলুমের অধ্যায় পাড় করে আসা ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্যতম। নিষিদ্ধ দল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে। তবুও থেমে থাকেনি দলের কার্যক্রম। নিরবে আর নিভৃতে কাজ করে আসা নেতাকর্মীদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে নারী রোকনরা। যারা নারী পর্যায়ে জামায়াতের ভোট তৈরি করেছেন।
বরগুনায় যে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে বরগুনা-১ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন; এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে কেওড়াবুনিয়া পীড় সাহেব মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালিউল্লাহ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর বরগুনা জেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ হারুন। এর বাইরে বরগুনা-১ আসনে রয়েছেন বিএনপি থেকে মনোনিত প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা। এছাড়াও খেলাফত মজলিস থেকেও নির্বাচন করার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ইসলামী বৃহৎ এই দু’টি দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে কার এই মুহূর্তে গ্রহণযোগ্যতা বেশি? সে হিসেব কষতে গেলে যেতে হবে সাধারণ জনগণের কাছে। তারা বলছেন- বরগুনা-১ আসনে বিগত দিনে ইসলামী দল থেকে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের গ্রহণযোগ্যতা ভোট পাওয়ার মধ্য থেকে উঠে এসেছে। বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এর আমীর অধ্যাপক মুহিব্বুল্লাহ হারুন কারাগারে থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন। হারুনের পরিস্থিতি প্রতিকূলে না থাকলেও তিনি ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। নির্বাচনের কারণে হারিয়েছিলেন বরগুনা দারুল উলুম নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষকতা। সাময়িক বরখাস্ত হয়ে মানবেতর জীবন কাটিয়েছেন দীর্ঘ সময়। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে এ আসনটিতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বসতে পারেননি কোন চেয়ারেই।
এ আসনের সাধারণ জনগণ বলছেন- সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে যেভাবে মাঠ সাজানো হয়েছে, তা ঠিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোরভাবে কাজ করতে হবে। একই সাথে সকলের সহযোগিতা থাকলে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হবে। যেখানে উঠে আসবে একজন সুযোগ্য নেতা, যার নেতৃত্বে ইনকিলাবের দেশ তৈরি হবে।
Leave a Reply