নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা বামনা উপজেলার মদীনা বাজার–খুচনীচোরা কাঁচা সড়ক অবশেষে উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেছে। নানা প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘ অপেক্ষার পর বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে সড়কটির উন্নয়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তির আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কটি উন্নয়নের প্রথম উদ্যোগ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. গোলাম সাত্তার। তিনি ২০১২ সালে স্থানীয়দের নিয়ে ‘মদীনা বাজার–খুচনীচোরা সড়ক উন্নয়ন আহ্বায়ক কমিটি’ গঠন করেন। তাঁর উদ্যোগে ২০১৪ সালে সড়কটি সরকারি আইডি নম্বর লাভ করে। তবে এরপর প্রায় সাত বছর ধরে নানা দপ্তরে ধরনা দিয়েও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি হয়নি।
পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য সন্তান, সিনিয়র সিভিল জজ সাব্বির মো. খালিদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনায় ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী সড়কটির জন্য বাজেট প্রস্তাব দেন। অনুমোদনের পর শুরু হয় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত উন্নয়ন কার্যক্রম।
উন্নয়ন চলাকালীন সময়েও সাব্বির মো. খালিদ নিয়মিত তদারকি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসানের মাধ্যমে সড়কটির উন্নয়ন স্কিম পুনরায় অনুমোদন লাভ করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় প্রকল্পটির।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ভাইজোড়া পাকা ব্রিজ খুচনীচোরা সড়ক উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. গোলাম সাত্তার।
প্রধান অতিথি ছিলেন মো. মেহেদী হাসান, নির্বাহী প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), বরগুনা। গেস্ট অব অনার ছিলেন সাব্বির মো. খালিদ, সিনিয়র সিভিল জজ, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, বরিশাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-দিপুল বিশ্বাস, উপজেলা প্রকৌশলী, বামনা। মো. কামরুল ইসলাম, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, পিরোজপুর। মো. তারেকুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী, ক্ষুদ্র সেচ বিভাগ, বামনা।
বক্তারা বলেন, এই সড়ক শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে নীরবে নিরলসভাবে কাজ করা কয়েকজন তরুণ সংগঠকের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন এলাকাবাসী। তাঁরা হলেন আবদুর রহমান, নাজমুল হক পলাশ ও দেলোয়ার হোসেন।
এছাড়াও মামুন খান, আবু সালেহ হাওলাদার, শিহাব খান, হারুনুর রশিদ, সজল ও মিজানুরসহ স্থানীয় যুব সমাজের সক্রিয় সহযোগিতায় শতবর্ষের অবহেলিত এই সড়ক আজ উন্নয়নের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
Leave a Reply