রংপুর প্রতিনিধি: মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অভ্যাসটা ভুলে গেছে। মানুষ মনে করে, আমি না গেলে ভোটটা কেউ দিয়ে দেবে এরকম একটা বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে গেছে। মানুষকে ভোটকেন্দ্রমুখী করা, সবাইকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে।’
শনিবার (৯ আগস্ট) রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রংপুর অঞ্চলে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন তিনি।
নাসির উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পর থেকে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সে দিক থেকে আইনশৃঙ্খলার একটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তারপরও অগাস্টের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নতি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ ভাইয়েরা ঘুমান না। কিন্তু তাদের সহযোগিতায় আমরা ঘুমাতে পারছি। পৃথিবীর যে সব দেশে এ রকম বিপ্লব হয়েছে, যখন একটা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্র সরকার দল যখন একটা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যায় সব একসঙ্গে ধ্বংস হয়। আমাদের সে ধরনের একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইরাক, আফগানিস্তানেও হয়েছে। যে সব দেশে এরকম হয়েছে বাংলাদেশের অবস্থা অনেক ভালো। এখনো ওই সব দেশে মারামারি গোলাগুলি চলছে। সেদিক থেকে আমরা অনেক ভালো আছি।’
ইলেকশনের তারিখ আসার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা আরও উন্নতি হবে বলে জানান তিনি।
তুনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটা পরিস্থিতির তৈরি করতে চাই, যেখানে শান্তিপূর্ণভাবে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। জনগণ এক হয়েছিল বলেই আমরা সবকিছু থেকে মুক্ত হতে পেরেছি। মানুষ যখন ভোট দিতে চাইবে, শান্তি চাইবে তাহলে সবকিছু সম্ভব। এখানে সাংবাদিকদের অনেক বড় ভূমিকা আছে বলেও মনে করে তিনি। চ্যালেঞ্জ থাকা সত্বেও আমরা মোকাবেলা করতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশনারসহ সবার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষের দোষ দিয়ে লাভ নেই। মানুষ দেখেছে এখানে যথাযথ কাজ করছি না কেউ। মানুষকে নির্বাচনে আস্থা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়েছে আমাদের জন্য। এদেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে এই বিশ্বাস অর্জন করা, এ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ প্রশাসনের লোকজন ও পুলিং, প্রিজাইডিং মিলে একটা সুন্দর নির্বাচন দিতে পারে এই বিশ্বাস আস্থা অর্জন করে দেওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে।’
এআই-এর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এআই মোকাবিলা করা মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার। আমরা সাংবাদিকদের পক্ষের শক্তি মনে করি। ইলেকট্রিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া, আমরা মনে করি তারা আমাদের পক্ষের লোক আমাদের হয়ে কাজ করবে। যারা মোবাইল দিয়ে সাংবাদিক হয়েছে ফেসবুক দিয়ে সাংবাদিক হয়েছে যাদের কোনো ট্রেনিং নেই, মানুষের ছবি দিয়ে যা ইচ্ছে তাই লিখে দিলো। সাধারণ মানুষ এগুলো বুঝতে পারে না। যার সম্বন্ধে বলতেছে তিনিও জানে না, যে বলছে তিনিও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে তৈরি করছে।এগুলো কিভাবে মোকাবেলা করা যায় সেটি চিন্তা করছি।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ভিডিও আসলে এক-দুই হাজার লোক শেয়ার করে দিলো, এগুলো জনগণকে যাচাই-বাছাই করার অনুরোধ জানান তিনি।
Leave a Reply