স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর ডেমরা থানাধীন নড়াইবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং স্টাফ কোয়ার্টারের হোসেন প্লাজা মার্কেটের মালিক ও ট্রপিক্যাল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাঃ লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী কাইয়ুমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ গুরুতর নানা অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। বিগত সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া এই নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাজী কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। গত ৫ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক হামলা ও হত্যা মামলাসহ একাধিক ফৌজদারি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। তার বিরুদ্ধে ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী থানায় বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
ডেমরা থানা: মামলা নম্বর-৩১ (তারিখ: ৩০/০৬/২০১৯)
ডেমরা থানা: মামলা নম্বর-৬ (তারিখ: ০৫/১০/২০২২)
যাত্রাবাড়ী থানা: মামলা নম্বর-৬৬ (তারিখ: ১৭/০১/২০২৫)
যাত্রাবাড়ী থানা: মামলা নম্বর-৭২ (তারিখ: ২৩/০২/২০২৫)
যাত্রাবাড়ী থানা: মামলা নম্বর-৯০ (তারিখ: ২২/০৩/২০২৫)
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বিগত ১৬ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন হাজী কাইয়ুম। তৎকালীন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন ও হয়রানি চালানো হতো, যার ফলে বহু নেতাকর্মী বছরের পর বছর এলাকাছাড়া ছিলেন। এছাড়া সাধারণ মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং নিজ মালিকানাধীন ‘হাজী সিএনজি ফিলিং স্টেশনে’ গ্যাসের মিটার টেম্পারিং করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যে, গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্থানীয় স্টাফ কোয়ার্টারের ‘আলমস রেস্তোরাঁয়’ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের প্রায় দেড়শ নেতাকর্মীর জন্য জাঁকজমকপূর্ণ ভোজের আয়োজন করেন তিনি। বর্তমানেও ঝটিকা মিছিলে মদদ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও একাধিক মামলার এই আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
আইন ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, হত্যা ও একাধিক গুরুতর মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এসব মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
এ বিষয়ে ডেমরা থানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযো করা হলে জানানো হয়, অভিযুক্ত হাজী কাইয়ুম সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন বলে তাদের ধারণা। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাজী কাইয়ুমের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
Leave a Reply