স্টাফ রিপোর্টার: সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দৈনিক ‘ঢাকা প্রতিদিন’-এর বিশেষ প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান (এইচ আর শফিক) জামিন পেয়েছেন। শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালতে জামিন শুনানিতে সাংবাদিক শফিকের পক্ষে অংশ নেন হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হায়দার রবিউল হোসাইন রবি, অ্যাডভোকেট নাদিম মাহমুদ এবং অ্যাডভোকেট আল মাহমুদ।
এর আগে গত ২১ জুলাই শাহবাগ থানা পুলিশ সাইবার সুরক্ষা আইনের একটি মামলায় হাফিজুর রহমান শফিককে আটক করে। পরদিন ২২ জুলাই অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদের আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।
সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদ ও উদ্বেগ
সাংবাদিক শফিকের গ্রেপ্তারের পর রাজধানীসহ সারা দেশে তীব্র প্রতিবাদ জানান কর্মরত সাংবাদিকরা। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য চরম উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল।
গত ২২ জুলাই রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘সাধারণ সাংবাদিক সমাজ’-এর ব্যানারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) কাউন্সিলর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সদস্য মোহাম্মদ মাসুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা শফিকের গ্রেপ্তারের কড়া সমালোচনা করেন।
মানববন্ধনে বিএফইউজে-এর সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ বলেন, “একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের আগে আইনগত প্রক্রিয়া আরও সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করা উচিত ছিল। কোনো প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা সংবাদমাধ্যমে জবাব দেওয়া কিংবা আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ ছিল।” তিনি অভিযোগ করেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক সংগঠনগুলো তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে এ ধরনের আইনে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত হতাশাজনক।” তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের দাবি
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধের বিচার হতে পারে, কিন্তু অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের মামলা, গ্রেপ্তার বা হয়রানির মাধ্যমে কণ্ঠরোধ করা গ্রহণযোগ্য নয়। দুর্নীতি বা অনিয়ম তুলে ধরা অপরাধ নয়, বরং জনস্বার্থে সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বক্তারা সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে একটি কার্যকর ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার বিবেচনায় নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, উক্ত মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নেতা নিজামুদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ, তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, এইচ এম আল-আমিন, আমিনুল ইসলাম, তাপস, রাসেল, জিয়াউর রহমান, নুরুল আবছার ও আকাশ মনিসহ অনেকে।
Leave a Reply